কম্পিউটার বা মোবাইলে দীর্ঘক্ষণ কাজ, অস্বস্তিকর ভঙ্গিতে ঘুম বা হঠাৎ পেশি টান—এমন নানা কারণে ঘাড়ে ব্যথা এখন খুব সাধারণ সমস্যা। ওষুধ খাওয়ার আগে ঘরেই কিছু যত্ন ও সচেতনতা অনেকটা আরাম দিতে পারে।
সঠিক ভঙ্গি বজায় রাখুন
সবচেয়ে জরুরি হলো সঠিক ভঙ্গি। কাজের সময় কম্পিউটার স্ক্রিন যেন চোখের সমান উচ্চতায় থাকে। মোবাইল দেখার সময় মাথা নিচু না করে চোখের সমান্তরালে ধরুন। কাঁধ সোজা রেখে বসুন, পিঠের নিচে ছোট বালিশ রাখতে পারেন।
গরম বা ঠান্ডা সেঁক
ব্যথার শুরুতে বরফের প্যাক বা ঠান্ডা তোয়ালে দিয়ে ১০–১৫ মিনিট সেঁক দিলে ফোলা কমে। কয়েক ঘণ্টা পর গরম পানির ব্যাগ বা হালকা গরম তোয়ালে দিয়ে সেঁক পেশি শিথিল করতে সাহায্য করে।
হালকা স্ট্রেচিং
কঠিন ব্যায়াম নয়, বরং ধীরে ধীরে ঘাড় একপাশ থেকে অন্যপাশে ঘোরানো, কাঁধ ঘুরানো, মাথা সামান্য নিচে–উপরে তোলা—এমন সহজ স্ট্রেচিং দিনে কয়েকবার করতে পারেন। তবে তীব্র ব্যথা বা স্নায়ু টান থাকলে জোর করবেন না।
পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও ঘুম
অতিরিক্ত পরিশ্রম পেশিকে আরও টানটান করে তোলে। যথেষ্ট ঘুম ও মাঝে মাঝে কাজের বিরতি পেশিকে পুনরুদ্ধারের সুযোগ দেয়। ঘুমের সময় মাঝারি শক্ত বালিশ ব্যবহার করুন, খুব উঁচু বা নিচু বালিশ ঘাড়ের জন্য ক্ষতিকর।
সতর্ক থাকুন
ব্যথা এক সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হলে, হাতে ঝিনঝিন ভাব বা দুর্বলতা দেখা দিলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। এগুলো স্নায়ু চাপে গুরুতর সমস্যার লক্ষণ হতে পারে।
দৈনন্দিন অভ্যাসে সামান্য পরিবর্তন ও নিয়মিত যত্নই ঘাড়ের ব্যথা কমিয়ে দিতে পারে। ওষুধ বা অপারেশনের আগেই এই সহজ পদ্ধতিগুলো চেষ্টা করতে পারেন।