ভূমিকম্পে কী করতে হবে, কোন ভুলগুলো এড়িয়ে চলতে হবে

হঠাৎ কেঁপে ওঠা মাটি যে কাউকে ভয় পাইয়ে দিতে পারে। তবে ভয় পেয়ে স্থির হয়ে বসে থাকা সমস্যার সমাধান নয়। বরং আগে থেকেই কিছু সহজ নিয়ম জানা থাকলে নিজের ও পরিবারের জীবন বাঁচানো সম্ভব। ভূমিকম্পে কী করতে হবে, কোন ভুলগুলো এড়িয়ে চলতে হবে—এসব নিয়েই সহজবোধ্য একটি নির্দেশিকা।

শান্ত থেকে অবস্থান ঠিক করুন
ভূমিকম্প শুরু হলে বেশিরভাগ মানুষ ঘাবড়ে যান। প্রথম কাজ হলো শান্ত থাকা। দৌড়াদৌড়ি বা হুড়োহুড়ি করলে আঘাত পাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। যেখানে আছেন সেখানেই টিকে থাকার মতো জায়গা খুঁজুন। নিরাপদ কোণে বসে মাথা ও ঘাড় দুই হাত দিয়ে ঢেকে রাখুন।

বাড়ির ভেতরে থাকলে নিরাপদ জায়গায় আশ্রয় নিন
অনেকেই প্রথম ধাক্কায় বাইরে বের হওয়ার চেষ্টা করেন। এটি ঝুঁকিপূর্ণ। দরজার নিচে দাঁড়ানোও নিরাপদ নয়। বরং মজবুত টেবিল, ডেস্ক বা বিছানার নিচে আশ্রয় নিন। দেয়ালের পাশে কোনো আসবাব থাকলে তার আড়ালে সরে যান। জানালা, আলমারি কিংবা ঝুলন্ত ফ্যানের নিচ থেকে দূরে থাকুন।

বাড়ির বাইরে থাকলে খোলা জায়গায় চলে যান
ভূমিকম্পের সময় যদি বাইরে থাকেন, তাহলে ভবন, বৈদ্যুতিক খুঁটি বা গাছপালা থেকে দূরে সরে যান। খোলা মাঠ বা খালি রাস্তায় থাকা নিরাপদ। গাড়িতে থাকলে রাস্তার পাশে থামুন এবং কম্পন থামা পর্যন্ত গাড়ির ভেতরেই থাকুন।

লিফট ব্যবহার করবেন না
অনেকেই আতঙ্কে লিফটে ওঠার চেষ্টা করেন। এটি বিপজ্জনক। ভূমিকম্পে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন বা লিফট আটকে যেতে পারে। সিঁড়ি ব্যবহার করাও ঝুঁকিপূর্ণ যদি না কম্পন পুরোপুরি থেমে যায়। তাই কম্পন থামার আগ পর্যন্ত ভেতরে নিরাপদ জায়গায় অপেক্ষা করুন।

গ্যাস-বিদ্যুতের উৎস বন্ধ করুন
কম্পন থেমে গেলে প্রথমে পরীক্ষা করুন গ্যাসের লাইন বা বৈদ্যুতিক সংযোগে কোনো সমস্যা হয়েছে কি না। গ্যাসের গন্ধ পেলে দ্রুত জানালা খুলুন এবং প্রধান লাইন বন্ধ করুন। ম্যাচ বা ইলেকট্রনিক সুইচ ব্যবহার করবেন না।

পরিবারের সদস্যদের খোঁজ নিন
বাড়িতে সবাই নিরাপদ আছে কি না দেখে নিন। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক মানুষ এবং অসুস্থদের আগে নিরাপদ স্থানে নিন। মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যস্ত থাকতে পারে, তাই প্রয়োজন ছাড়া ফোনে কথা না বলাই ভালো।

ভবনের ক্ষতি পরীক্ষা করুন
কম্পনের পর আশেপাশের দেয়াল, সিঁড়ি বা বিমে ফাটল দেখা দেয় কি না খেয়াল করুন। গুরুতর ফাটল থাকলে দ্রুত বাইরে বের হয়ে নিরাপদ স্থানে যান এবং বিশেষজ্ঞ আসা পর্যন্ত বাসায় না ঢোকাই ভালো।

প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র প্রস্তুত রাখুন
সবসময় জরুরি ব্যাগে পানি, শুকনো খাবার, ওষুধ, ফ্ল্যাশলাইট, পাওয়ার ব্যাংক, গুরুত্বপূর্ণ কাগজের কপি রাখা ভালো। ভূমিকম্প যেকোনো সময় হতে পারে, তাই প্রস্তুত থাকাই সবচেয়ে বড় সুরক্ষা।

রটনা নয়, তথ্য অনুসরণ করুন
ভূমিকম্পের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা গুজব ছড়িয়ে পড়ে। আতঙ্ক বাড়ায় এমন বার্তা শেয়ার করবেন না। সরকারি সংস্থা বা নির্ভরযোগ্য মাধ্যমের তথ্য অনুসরণ করুন।

ভূমিকম্প থামানোর উপায় নেই, কিন্তু সচেতনতা বাড়িয়ে ঝুঁকি কমানো যায়। নিজের, পরিবারের এবং প্রতিবেশীর নিরাপত্তার জন্য এই সহজ নিয়মগুলো মেনে চলাই সঠিক প্রস্তুতি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *