শীত এলেই গ্রামবাংলায় খেজুর গাছ থেকে রস তোলার দৃশ্য দেখা যায়। মাটির হাঁড়িতে চুইয়ে চুইয়ে জমা হওয়া এই রস গরম ভাতের সঙ্গে কিংবা সরাসরি পান করার রীতি বহু পুরোনো। ঠান্ডা সকালের মিষ্টি স্বাদে দিন শুরু করার আনন্দই আলাদা। তবে এই কাঁচা রস নিয়ে বিশেষ সতর্কতা জরুরি। স্বাদে প্রাকৃতিক হলেও কাঁচা রস সরাসরি পান করলে নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
ব্যাকটেরিয়ার ঝুঁকি
খেজুর গাছ থেকে রস তোলার সময় খোলা পরিবেশে এটি নানা রকম জীবাণুর সংস্পর্শে আসে। গাছের গুঁড়ি, পাত্র, কিংবা রসের সংরক্ষণ প্রক্রিয়া জীবাণু নিয়ন্ত্রণে রাখা হয় না। ফলে কাঁচা রসে ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাসের উপস্থিতি থাকাটা অস্বাভাবিক নয়। এগুলো শরীরে গেলে পেটের সমস্যা, ডায়রিয়া বা বমি হতে পারে।
নিপাহ সংক্রমণের আশঙ্কা
কাঁচা খেজুর রসের সঙ্গে নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণের ঝুঁকি নিয়ে বহু গবেষণা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাদুড়ের সংস্পর্শে আসা রস সংক্রমণের মাধ্যম হতে পারে। বাংলাদেশেও অতীতে এমন ঘটনার প্রমাণ পাওয়া গেছে। নিপাহ ভাইরাস মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে এবং দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই বিশেষজ্ঞরা কাঁচা রস না খাওয়ার পরামর্শ দেন।
সংরক্ষণের সমস্যা
কাঁচা রস দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। সঠিকভাবে সংরক্ষণ না করলে রসের গুণাগুণ নষ্ট হওয়া তো বটেই, ক্ষতিকর জীবাণুও বাড়তে পারে। বাজারে পাওয়া রসও প্রায় সময় দীর্ঘক্ষণ খোলা পাত্রে রাখা হয়। এতে দূষণের মাত্রা আরও বেড়ে যায়।
কি করবেন
স্বাদ বা অভ্যাস পুরো বাদ দিতে হবে এমন নয়। খেজুরের রস গরম করে খাওয়া বা গুড় ও পাটালি তৈরি করে সংরক্ষণ করা নিরাপদ। গরম করলে জীবাণুর ঝুঁকি কমে এবং সংক্রমণের সম্ভাবনাও কম থাকে। পাশাপাশি পরিচ্ছন্ন পরিবেশে রস সংগ্রহ ও সংরক্ষণ হলে ঝুঁকি আরও কমে।
স্বাস্থ্যের প্রশ্নে সতর্ক থাকা সবসময়ই উত্তম। খেজুরের কাঁচা রস আমাদের শীতের সংস্কৃতি ও স্মৃতির অংশ। তবে নিরাপত্তা উপেক্ষা করলে স্বাদই হতে পারে বিপদের কারণ। তাই কাঁচা রস সরাসরি পান করা পরিহার করুন, আর উপভোগ করুন নিরাপদ উপায়ে।