আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সবচেয়ে স্বাভাবিক একটি প্রক্রিয়া হলো মলত্যাগ। কিন্তু যখন এই সময় ব্যথা, জ্বালা বা অস্বস্তি দেখা দেয়, তখন তা শুধু বিব্রতকর নয়— বরং শরীরের ভেতরের এক সতর্ক সংকেতও হতে পারে। অনেকে এই সমস্যাকে লজ্জার কারণে চেপে যান, কিন্তু অবহেলা করলে তা আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
চলুন জেনে নিই মলত্যাগের সময় ব্যথার সম্ভাব্য কারণ, সঠিক করণীয় ও প্রতিরোধের উপায়—
কেন মলত্যাগের সময় ব্যথা হয়?
এ ধরনের ব্যথা অনেক কারণেই হতে পারে। সব সময় এটি বড় কোনো রোগের লক্ষণ নয়, তবে কারণটা জানা গুরুত্বপূর্ণ।
নিচে সবচেয়ে সাধারণ কিছু কারণ উল্লেখ করা হলো—
কোষ্ঠকাঠিন্য: দীর্ঘ সময় পরিশ্রম করে মলত্যাগ করতে হলে বা মল শক্ত হয়ে গেলে পায়ুপথে চাপ পড়ে, ফলে ফেটে যেতে পারে ছোট ক্ষত (ফিশার)। এটি সবচেয়ে সাধারণ কারণ।
অ্যানাল ফিশার (Anal fissure): পায়ুপথে ছোট ছিঁড়ে যাওয়া বা ক্ষত হলে তীব্র জ্বালা ও ব্যথা অনুভূত হয়। প্রতিবার মলত্যাগের সময় এটি বাড়ে।
পাইলস বা অর্শ: পায়ুপথের ভেতরে বা বাইরে ফুলে ওঠা শিরা থেকে রক্তপাত ও ব্যথা হতে পারে। অনেক সময় এটি চুলকানি বা জ্বালাপোড়া সঙ্গেও থাকে।
সংক্রমণ বা প্রদাহ: ব্যাকটেরিয়া বা ছত্রাকের সংক্রমণেও ব্যথা, লালচে ভাব বা জ্বালাভাব দেখা দিতে পারে।
অন্য জটিল কারণ: বিরল ক্ষেত্রে রেকটাল আলসার, পলিপ বা টিউমারের মতো সমস্যাও দায়ী হতে পারে।
কী করবেন: করণীয় ও চিকিৎসা
প্রথমেই মনে রাখতে হবে— নিজে নিজে ওষুধ খাওয়া বা সময়ক্ষেপণ না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
তবু প্রাথমিকভাবে কিছু ঘরোয়া যত্ন ব্যথা ও অস্বস্তি কমাতে সাহায্য করে—
ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার খান: শাকসবজি, ফল, ওটস, গোটা শস্য জাতীয় খাবার অন্ত্রে মল নরম রাখে।
প্রচুর পানি পান করুন: প্রতিদিন অন্তত ৮–১০ গ্লাস পানি পান করলে কোষ্ঠকাঠিন্য কমে।
সিটজ বাথ নিন: হালকা গরম পানিতে ১০–১৫ মিনিট বসে থাকা পায়ুপথের ব্যথা কমায় ও রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়।
নরম টিস্যু ব্যবহার করুন: রুক্ষ টিস্যু বা ঘষা এড়িয়ে চলুন।
অতিরিক্ত জোরে চাপ দেবেন না: টয়লেটে দীর্ঘ সময় বসে থাকা বা মোবাইল ব্যবহারও সমস্যাকে বাড়ায়।
যদি কয়েকদিনেও ব্যথা না কমে বা রক্তপাত হয়, তাহলে অবশ্যই গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট বা প্রোক্টোলজিস্টের পরামর্শ নিতে হবে।
প্রতিরোধ: কিছু অভ্যাস বদলেই স্বস্তি
নিয়মিত মলত্যাগের অভ্যাস করুন, দেরি করবেন না।
হালকা ব্যায়াম করুন, শরীরচর্চা অন্ত্রের কার্যক্ষমতা বাড়ায়।
অতিরিক্ত ঝাল বা প্রক্রিয়াজাত খাবার কমান।
মানসিক চাপ কমান— মানসিক চাপও হজমে প্রভাব ফেলে।
শেষ কথা
মলত্যাগের সময় ব্যথা এমন এক সমস্যা, যা অনেকেই লজ্জায় গোপন রাখেন। কিন্তু মনে রাখুন— এটি শরীরের একধরনের সতর্ক সংকেত, অবহেলা করলে সমস্যা আরও গভীর হতে পারে। সময়মতো চিকিৎসা, পরিমিত খাদ্যাভ্যাস ও সচেতন জীবনযাপনই পারে আপনাকে এই অস্বস্তি থেকে মুক্ত রাখতে।