হঠাৎ বৃষ্টি উপভোগের আনন্দের পরই শরীর কাবু হয়ে যেতে পারে। ভেজা কাপড়, ঠান্ডা বাতাস আর তাপমাত্রার হেরফের মিলেই জ্বরের ঝুঁকি বাড়ে। তবে আতঙ্কিত না হয়ে সঠিক যত্ন নিলে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দ্রুত সুস্থ হওয়া সম্ভব।
প্রথমেই শুকনো পোশাক ও বিশ্রাম
বৃষ্টি ভিজে বাসায় ফিরেই ভেজা কাপড় খুলে শুকনো, উষ্ণ কাপড় পরুন। শরীর গরম রাখতে পাতলা কম্বল ব্যবহার করতে পারেন। তারপর অন্তত কয়েক ঘণ্টা বিশ্রামে থাকুন।
গরম পানির গার্গল ও বাষ্প
গলা ব্যথা বা সর্দি ঠেকাতে গরম পানিতে লবণ মিশিয়ে গার্গল করুন। নাক বন্ধ বা হালকা সর্দি থাকলে বাষ্প নিলে উপকার পাবেন।
পর্যাপ্ত পানি ও গরম স্যুপ
জ্বর হলে শরীর দ্রুত পানিশূন্য হয়। তাই হালকা গরম পানি, স্যুপ, ডাবের পানি বা ফলের রস পান করুন। এতে শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকবে ও শক্তি মিলবে।
হালকা ও পুষ্টিকর খাবার
খিচুড়ি, ডাল-ভাত, শাকসবজি, ফলের মতো হজমে সহজ খাবার খান। তেল–ঝাল ও ভাজাপোড়া এড়িয়ে চলুন।
তাপমাত্রা মাপা ও জ্বর নিয়ন্ত্রণ
প্রতি কয়েক ঘণ্টা পরপর শরীরের তাপমাত্রা মাপুন। ১০১ ডিগ্রি ফারেনহাইটের বেশি হলে চিকিৎসকের পরামর্শে জ্বরের ওষুধ খেতে পারেন। নিজে থেকে অ্যান্টিবায়োটিক না নেওয়াই ভালো।
কখন ডাক্তার দেখাবেন
তিন দিনের বেশি জ্বর থাকলে, প্রচণ্ড মাথাব্যথা, শ্বাসকষ্ট, শরীরে র্যাশ, ডায়রিয়া বা তীব্র গলা ব্যথা দেখা দিলে দেরি না করে ডাক্তার দেখান। ডেঙ্গু, ইনফ্লুয়েঞ্জা বা ভাইরাল সংক্রমণের সম্ভাবনা থাকতে পারে।
প্রতিরোধই সেরা উপায়
বৃষ্টিতে ভিজে গেলে যত দ্রুত সম্ভব গোসল করে শরীর মুছে ফেলুন। বাইরে বেরোলে ছাতা বা রেইনকোট ব্যবহার করুন, হালকা গরম চা বা স্যুপ পান করুন।
সতর্ক যত্ন ও সময়মতো চিকিৎসা—এই দুই মিলে বৃষ্টির পরের জ্বর সহজেই সামলানো যায়। নিজের শরীরের প্রতি খেয়াল রাখলেই আনন্দের বৃষ্টি অসুস্থতার কারণ হবে না।