প্রতিদিন ঘরে শোনেনি এমন শব্দ নেই—“কটন বাড দিয়ে কান পরিষ্কার করা স্বাভাবিক”। অথচ এই ছোট অভ্যাসটাই কখনো কখনো বড় বিপদের দরজা খুলে দিতে পারে। ডাক্তারদের সতর্কবার্তা অনুযায়ী, কটন বাড কান পরিষ্কারের জন্য নয়, বরং ভুলভাবে ব্যবহার করলে তা শোনা-শুনির ক্ষতি, ব্যথা বা সংক্রমণও ঘটাতে পারে।
কানের মোম প্রাকৃতিকভাবে একটি সুরক্ষা হিসাবে কাজ করে। এটি ধুলো ও জীবাণু আটকায় এবং কানকে আর্দ্র ও সুস্থ রাখে। কটন বাড দিয়ে এটি পরিষ্কার করার চেষ্টা করলে কানের ভেতরের সংবেদনশীল অংশে আঘাত লাগে। প্রায়ই দেখা যায়, মানুষ বাড ব্যবহার করে মোমকে ভেতরে ঠেলে দেয়, যা পরে কানে চাপ তৈরি করে, ব্যথা বা শোনার সমস্যা সৃষ্টি করে।
ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে আরও সতর্ক থাকতে হবে। কটন বাড ব্যবহারে শিশুদের কানের নরম ও সূক্ষ্ম অংশে সহজে ক্ষতি হতে পারে। এক ছোট আঘাতও সংক্রমণ বা স্থায়ী শোনার সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই ডাক্তাররা প্রায়শই পরামর্শ দেন, শিশুদের কানের মোম মুছতে শুধু বাহ্যিক অংশের মৃদু মুছাই যথেষ্ট।
কানের সুরক্ষার জন্য বেশি কার্যকর বিকল্প হলো উষ্ণ পানি বা ডাক্তারের পরামর্শে নির্দিষ্ট ওষুধ বা কেঁচো খাওয়ার পানি ব্যবহার করা। এছাড়া, কানের ভেতরে কোনো বস্তু ঢোকানো এড়িয়ে চলাই সবচেয়ে নিরাপদ। নিয়মিত কানের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করলেও সমস্যা থাকলে দ্রুত সমাধান সম্ভব।
কটন বাড সহজ মনে হলেও এটি একটি ছোট “ঝুঁকি” বয়ে নিয়ে আসে। নিজের বা পরিবারের সুরক্ষার জন্য সচেতন হওয়া জরুরি। দৈনন্দিন অভ্যাসে সামান্য পরিবর্তনই অনেক বড় বিপদ থেকে রক্ষা করতে পারে। তাই কটন বাড ব্যবহার করার আগে একবার ভাবুন—আপনি কি সত্যিই নিরাপদ পথে যাচ্ছেন?