দাঁতের যত্ন মানে শুধু সকালে ও রাতে ব্রাশ করা নয়। আমাদের প্রতিদিনের কিছু অভ্যাস অজান্তেই দাঁতের ক্ষতি করে। এগুলো নজরে এলে আগেভাগেই সমস্যার হাত থেকে বাঁচা যায়।
গরম-ঠান্ডা খাবার একসঙ্গে খাওয়া
গরম চা বা কফির পর ঠান্ডা পানি বা আইসক্রিম খেতে অনেকে ভালোবাসেন। কিন্তু তাপমাত্রার এই ধাক্কা দাঁতের এনামেল দুর্বল করে। সংবেদনশীলতা বাড়ে এবং সময়ের সঙ্গে দাঁত ভেঙেও যেতে পারে।
বেশি চিনি খাওয়া
চকোলেট, কেক বা কোমল পানীয় দাঁতের জন্য বড় ঝুঁকি। চিনি দাঁতের ওপর ব্যাকটেরিয়ার সঙ্গে মিশে অ্যাসিড তৈরি করে। এতে এনামেল ক্ষয় হয় এবং ক্যাভিটি তৈরি হয়।
দাঁত ঘষাঘষি করা
চিন্তা, দুশ্চিন্তা বা ঘুমের সময় দাঁত চেপে ধরা অনেকের অজানা অভ্যাস। এতে দাঁতের ওপর অপ্রয়োজনীয় চাপ পড়ে। দাঁত ক্ষয়ে যায়, চোয়াল ব্যথা হতে পারে এবং মাথাব্যথাও দেখা দিতে পারে।
ভুলভাবে ব্রাশ করা
শক্ত ব্রাশ বা জোরে ব্রাশ করলে দাঁতের এনামেল পাতলা হয়ে যায়। মাড়ি সরে গিয়ে দাঁত সংবেদনশীল হয়ে ওঠে। নরম ব্রাশ ও ধীরে ব্রাশ করা নিরাপদ।
স্ট্র ব্যবহার না করা
কোমল পানীয় বা ফলের রস সরাসরি পান করলে চিনি ও অ্যাসিড বেশি সময় দাঁতে লেগে থাকে। এতে ক্যাভিটির ঝুঁকি বাড়ে। স্ট্র ব্যবহার করলে দাঁতের সংস্পর্শ কমে।
হঠাৎ দাঁত দিয়ে শক্ত জিনিস কামড়ানো
প্যাকেট ছেঁড়ার জন্য দাঁত ব্যবহার করা, বাদাম বা বরফ কামড়ানো অভ্যাস দাঁত ভেঙে ফেলতে পারে। এনামেল ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং দাঁত ভঙ্গুর হয়ে পড়ে।
বারবার স্ন্যাক্স খাওয়া
বারবার বিস্কুট, চিপস বা মিষ্টি জাতীয় খাবার খেলে দাঁত প্রতিবার অ্যাসিডের আক্রমণের মুখে পড়ে। এতে দীর্ঘমেয়াদে ক্যাভিটি হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।
কি করবেন
চিনি কমান, পানি বেশি পান করুন, নরম ব্রাশ ব্যবহার করুন এবং অযথা দাঁত দিয়ে কিছু না কামড়ান। অনেক দিন সমস্যা থাকলে দেরি না করে ডেন্টাল পরামর্শ নিন। বছরে একবার দাঁত পরীক্ষা করলে ভবিষ্যতের বড় ঝামেলা এড়ানো যায়।
দাঁতের সৌন্দর্য শুধু হাসির নয়, স্বাস্থ্যেরও বিষয়। ছোট পরিবর্তন বড় উপকার আনে। এখনই অভ্যাসগুলো নজরে আনুন।