দুপুরের খাবারের পর ঘুম পেলে কী করবেন?


দুপুরের খাবার শেষ করেই চোখে ঘুম নেমে আসা খুবই সাধারণ ব্যাপার। খাওয়ার পর শরীর হজমের কাজে ব্যস্ত হয়, আর দিনের এই সময়টাতেও অনেকের স্বাভাবিকভাবেই সতর্কতা কিছুটা কমে যায়। তার সঙ্গে যদি আগের রাতে পর্যাপ্ত ঘুম না হয়, তাহলে দুপুরের খাবারের পর ঝিমুনি আরও তীব্র হতে পারে।

তবে দুপুরের খাবারের পর প্রতিদিন এমন ঘুম পায় যে কাজ করা কঠিন হয়ে পড়ে, তাহলে বিষয়টি একটু খেয়াল করা দরকার। খাবারের পরিমাণ ও ধরন, পানি পান, শারীরিক সক্রিয়তা এবং রাতের ঘুমের মান, সবকিছুর সঙ্গেই এর সম্পর্ক থাকতে পারে।

একবারে বেশি খাবেন না

দুপুরে পেট ভরে খাওয়ার অভ্যাস ঝিমুনি বাড়িয়ে দিতে পারে। বিশেষ করে খুব বেশি ভাত বা অন্যান্য পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেটের সঙ্গে অতিরিক্ত তেল-চর্বিযুক্ত খাবার থাকলে খাওয়ার পর ভারী লাগতে পারে। তাই একবারে খুব বেশি না খেয়ে পরিমাণ বুঝে খাওয়া ভালো।

খাবারের প্লেটে শাকসবজি, ডাল, মাছ, ডিম বা অন্য কোনো প্রোটিনের উৎস এবং পরিমিত পরিমাণে ভাত বা রুটি রাখলে খাবারটি তুলনামূলক ভারসাম্যপূর্ণ হয়।

খাবারের পর একটু হাঁটুন

খাওয়ার পর সঙ্গে সঙ্গে বিছানায় বা সোফায় শুয়ে পড়ার বদলে কয়েক মিনিট ধীরে হাঁটতে পারেন। হালকা হাঁটাহাঁটি খাবারের পর শরীরকে সক্রিয় রাখতে সাহায্য করে এবং দীর্ঘ সময় বসে থাকার অভ্যাসও কমায়।

তবে খাওয়ার পরপরই দ্রুত হাঁটা, দৌড়ানো বা ভারী ব্যায়াম করার প্রয়োজন নেই। স্বাভাবিক গতিতে অল্প হাঁটাই যথেষ্ট।

পানি পান করতে ভুলবেন না

শরীরে পানির ঘাটতি থাকলেও ক্লান্তি ও ঝিমুনি অনুভূত হতে পারে। তাই দিনের অন্যান্য সময়ের মতো দুপুরের খাবারের সময়ও পর্যাপ্ত পানি পান করা উচিত। তবে একসঙ্গে অতিরিক্ত পানি পান করার বদলে সারা দিন নিয়মিত পানি পান করার অভ্যাস গড়ে তোলা ভালো।

দুপুরের খাবারে অতিরিক্ত মিষ্টি কমান

খাবারের সঙ্গে অতিরিক্ত মিষ্টি, মিষ্টি পানীয় বা চিনি-সমৃদ্ধ খাবার যোগ করলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রায় দ্রুত পরিবর্তন হতে পারে। এতে কারও কারও খাওয়ার পর আরও ক্লান্ত বা ঝিমঝিম লাগতে পারে। তাই দুপুরের খাবারের সঙ্গে মিষ্টি পানীয়ের বদলে পানি রাখার অভ্যাস ভালো।

রাতের ঘুম ঠিক আছে কি না দেখুন

দুপুরের খাবারের পর ঘুম পাওয়ার অন্যতম কারণ হতে পারে আগের রাতের অপর্যাপ্ত বা খারাপ মানের ঘুম। প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণত প্রতি রাতে অন্তত ৭ ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন। তাই প্রতিদিন দুপুরে ঘুমের সঙ্গে লড়াই করার আগে রাতে পর্যাপ্ত ঘুম হচ্ছে কি না, সেটি খেয়াল করা জরুরি।

রাতে দেরি করে ঘুমানো, ঘন ঘন ঘুম ভেঙে যাওয়া বা ঘুম থেকে ওঠার পরও সতেজ না লাগলে শুধু দুপুরের খাবারকে দায়ী করা ঠিক হবে না।

খুব ঘুম পেলে ছোট ঘুম নেওয়া যেতে পারে

সুযোগ থাকলে দুপুরে অল্প সময়ের জন্য ঘুমানো অনেকের সতেজতা ফিরিয়ে আনতে পারে। তবে দীর্ঘ সময় ঘুমিয়ে পড়লে রাতে ঘুমের সমস্যা হতে পারে। তাই দিনের বেলায় ঘুমালে সেটি ছোট রাখাই ভালো।

কাজের জায়গায় ঘুমানোর সুযোগ না থাকলে কয়েক মিনিট চোখ বন্ধ করে শান্তভাবে বসা, একটু হাঁটা বা কাজের পরিবেশ পরিবর্তন করাও সাময়িক ঝিমুনি কাটাতে সাহায্য করতে পারে।

চা-কফির ওপর অতিরিক্ত নির্ভর করবেন না

দুপুরের ঘুম কাটাতে অনেকেই একের পর এক চা বা কফি পান করেন। ক্যাফেইন সাময়িকভাবে সতর্কতা বাড়াতে পারে, কিন্তু এটিকে নিয়মিত ঘুমের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা ঠিক নয়। বিশেষ করে বিকেল বা সন্ধ্যার পর অতিরিক্ত ক্যাফেইন খেলে রাতে ঘুমাতে সমস্যা হতে পারে।

প্রতিদিন অতিরিক্ত ঘুম পেলে কারণ খুঁজুন

দুপুরের খাবারের পর সামান্য ঝিমুনি স্বাভাবিক হতে পারে। কিন্তু প্রতিদিন এতটাই ঘুম পায় যে অফিসের কাজ, পড়াশোনা বা গাড়ি চালানোর মতো কাজে মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে, তাহলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার।

বিশেষ করে রাতে পর্যাপ্ত ঘুমানোর পরও যদি দিনের বেলায় অস্বাভাবিক ঘুম পায়, তাহলে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলা যেতে পারে। ঘুমের বিভিন্ন সমস্যা, কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, রক্তস্বল্পতা, থাইরয়েডের সমস্যা বা অন্যান্য শারীরিক অবস্থার সঙ্গেও অতিরিক্ত দিনের ঘুমের সম্পর্ক থাকতে পারে।

সবশেষে, দুপুরের খাবারের পর ঘুম পাওয়া মানেই খাবার খারাপ বা শরীরে কোনো সমস্যা আছে, এমন নয়। অনেক সময় খাবারের পরিমাণ কমানো, খাবারে বৈচিত্র্য আনা, নিয়মিত পানি পান, কয়েক মিনিট হাঁটা এবং রাতে পর্যাপ্ত ঘুমই পার্থক্য তৈরি করতে পারে। তবে ঘুমের প্রবণতা যদি নিয়মিত ও অতিরিক্ত হয়, তাহলে কারণটি খুঁজে দেখা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। শরীরের স্বাভাবিক ক্লান্তি আর অস্বাভাবিক ঘুমঘুম ভাবের পার্থক্য বুঝতে পারাই এখানে মূল বিষয়।