- লিঙ্ক পান
- X
- ইমেল
- অন্যান্য অ্যাপ
নতুন জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬-এ দুর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকায় কর্মরত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য আলাদা ভাতার বিধান রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পাহাড়ি ভাতা এবং হাওড়, দ্বীপ ও চর ভাতা। তবে এই দুই ধরনের ভাতার হার ও সর্বোচ্চ সীমা এক নয়। কোথায় কর্মরত, তার ওপরও পাহাড়ি ভাতার সর্বোচ্চ সীমা নির্ভর করছে।
‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’-এর ২৫২০৮ পৃষ্ঠায় পাহাড়ি এবং হাওড়/দ্বীপ/চর ভাতার বিধান রয়েছে। সরকারি গেজেটটি ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত এবং এর পৃষ্ঠাসংখ্যা ২৫১৯৩ থেকে ২৫২১১।
পাহাড়ে চাকরি করলে কত ভাতা?
পার্বত্য এলাকায় কর্মরত সরকারি কর্মচারীদের জন্য মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে পাহাড়ি ভাতা দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। তবে ভাতার সর্বোচ্চ সীমা কর্মস্থলের অবস্থানের ওপর নির্ভর করছে।
পার্বত্য জেলার সদর ও সদর উপজেলা এলাকায় কর্মরত হলে মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা পাহাড়ি ভাতা পাওয়া যাবে।
আর সদর ও সদর উপজেলা ছাড়া অন্যান্য উপজেলায় কর্মরত হলে মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে সর্বোচ্চ ৫ হাজার ৫০০ টাকা পাহাড়ি ভাতা পাওয়া যাবে।
অর্থাৎ পাহাড়ি ভাতা সবার জন্য সরাসরি ৫ হাজার বা ৫ হাজার ৫০০ টাকা নয়। হিসাব হবে মূল বেতনের ২০ শতাংশ। সেই হিসাব নির্ধারিত সর্বোচ্চ সীমার বেশি হলে সর্বোচ্চ সীমাই প্রযোজ্য হবে।
উদাহরণ হিসেবে, কোনো কর্মচারীর মূল বেতন ২০ হাজার টাকা হলে ২০ শতাংশ হিসেবে পাহাড়ি ভাতা দাঁড়ায় ৪ হাজার টাকা। তিনি যদি এমন এলাকায় কর্মরত থাকেন যেখানে সর্বোচ্চ সীমা ৫ হাজার ৫০০ টাকা, তবুও তাঁর প্রাপ্য হবে ৪ হাজার টাকা। কারণ তাঁর মূল বেতনের ২০ শতাংশ ৫ হাজার ৫০০ টাকার কম।
আবার মূল বেতন ৩০ হাজার টাকা হলে ২০ শতাংশ দাঁড়ায় ৬ হাজার টাকা। সে ক্ষেত্রে ৫ হাজার ৫০০ টাকার সর্বোচ্চ সীমা প্রযোজ্য হবে, যদি কর্মস্থলটি সদর বা সদর উপজেলা এলাকার বাইরে সংশ্লিষ্ট পার্বত্য উপজেলায় হয়।
হাওড়, দ্বীপ ও চরে কত?
হাওড়, দ্বীপ ও চর এলাকায় কর্মরত সরকারি কর্মচারীদের জন্যও মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে ভাতা দেওয়ার বিধান রয়েছে। তবে এই ভাতার সর্বোচ্চ সীমা মাসে ৫ হাজার টাকা।
অর্থাৎ মূল বেতন ২০ হাজার টাকা হলে ২০ শতাংশ হিসেবে হাওড়, দ্বীপ বা চর ভাতা হবে ৪ হাজার টাকা।
মূল বেতন ২৫ হাজার টাকা হলে ২০ শতাংশ হবে ৫ হাজার টাকা। এ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সীমায় পৌঁছে যাবে।
আর মূল বেতন ৩০ হাজার টাকা হলে ২০ শতাংশ দাঁড়াবে ৬ হাজার টাকা। কিন্তু সর্বোচ্চ সীমা ৫ হাজার টাকা হওয়ায় কর্মচারী পাবেন ৫ হাজার টাকা।
এক নজরে
| কর্মস্থল | ভাতার হার | সর্বোচ্চ মাসিক ভাতা |
|---|---|---|
| পার্বত্য জেলার সদর ও সদর উপজেলা | মূল বেতনের ২০% | ৫,০০০ টাকা |
| পার্বত্য জেলার অন্যান্য উপজেলা | মূল বেতনের ২০% | ৫,৫০০ টাকা |
| হাওড়, দ্বীপ ও চর এলাকা | মূল বেতনের ২০% | ৫,০০০ টাকা |
বেতন বাড়লে ভাতাও কি বাড়বে?
এখানে একটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ভাতার হার যেহেতু মূল বেতনের শতাংশ হিসেবে নির্ধারিত, তাই মূল বেতন পরিবর্তিত হলে শতাংশের ভিত্তিতে হিসাব করা ভাতার অঙ্কও পরিবর্তিত হতে পারে। তবে নির্ধারিত সর্বোচ্চ সীমা অতিক্রম করা যাবে না।
অর্থাৎ কোনো কর্মচারীর মূল বেতন এমন পর্যায়ে গেলে ২০ শতাংশ হিসাব সর্বোচ্চ সীমার চেয়ে বেশি হয়, তখন তিনি সর্বোচ্চ নির্ধারিত টাকাটিই পাবেন।
২০২৬ সাল থেকেই কি এই নতুন ভাতা পাওয়া যাবে?
এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে মূল বেতন এবং নতুন হারের ভাতার মধ্যে।
নতুন বেতন কাঠামো ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর হলেও বিভিন্ন ভাতার নতুন হার তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হচ্ছে না। প্রকাশিত গেজেটভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, নতুন হারে বিভিন্ন ভাতা কার্যকর হবে ১ জানুয়ারি ২০২৮ থেকে। এর আগে বিদ্যমান বিধান ও হারে ভাতা চলবে।
তাই ২০২৬ সালের জুলাই থেকে কোনো কর্মচারী নতুন পে-স্কেলের মূল বেতন বৃদ্ধির অংশ পেলেই তিনি একই সঙ্গে নতুন হারে পাহাড়ি বা হাওড়-দ্বীপ-চর ভাতা পেতে শুরু করবেন, এমনটি ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।
কারা এই ভাতা পাবেন?
শুধু কোনো দুর্গম জেলায় চাকরি করলেই পাহাড়ি ভাতা বা হাওড়-দ্বীপ-চর ভাতা পাওয়া যাবে, এমন সরল নিয়ম নেই। গেজেটে সংশ্লিষ্ট কর্মস্থল ও প্রযোজ্য সরকারি নির্দেশনার ভিত্তিতে এসব ভাতা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
বিশেষ করে হাওড়, দ্বীপ ও চর এলাকার ক্ষেত্রে কোন কোন এলাকা এই ভাতার আওতায় পড়বে, সেটি সংশ্লিষ্ট সরকারি তালিকা ও নির্দেশনার সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে হবে। প্রকাশিত গেজেটভিত্তিক তথ্যে এ ভাতার ক্ষেত্রে আগের সরকারি প্রজ্ঞাপন ও সময়ে সময়ে জারি করা নির্দেশনা প্রযোজ্য থাকার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
অর্থাৎ একজন কর্মচারী নিজের কর্মস্থল হাওড়, দ্বীপ বা চর এলাকায় পড়ে কি না, সেটি অফিসের প্রশাসনিক রেকর্ড ও সংশ্লিষ্ট সরকারি তালিকার সঙ্গে মিলিয়ে নিশ্চিত করবেন।
২০তম গ্রেডের কর্মচারীর ক্ষেত্রে কত হতে পারে?
ধরা যাক, ২০তম গ্রেডের একজন কর্মচারীর নতুন মূল বেতন ২০ হাজার টাকা।
মূল বেতনের ২০ শতাংশ:
২০,০০০ × ২০% = ৪,০০০ টাকা।
তাই সংশ্লিষ্ট শর্ত পূরণ করে তিনি পাহাড়ি বা হাওড়-দ্বীপ-চর এলাকার ভাতার জন্য যোগ্য হলে এই উদাহরণে মাসিক ভাতা হবে ৪ হাজার টাকা, কারণ তা সংশ্লিষ্ট সর্বোচ্চ সীমার নিচে।
কিন্তু একই কর্মচারীর মূল বেতন ৩০ হাজার টাকা হলে ২০ শতাংশ হবে ৬ হাজার টাকা। তখন পাহাড়ি ভাতার ক্ষেত্রে কর্মস্থলভেদে সর্বোচ্চ ৫ হাজার বা ৫ হাজার ৫০০ টাকা এবং হাওড়, দ্বীপ ও চর ভাতার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা প্রযোজ্য হবে।
শুধু ‘দুর্গম এলাকা’ বললেই হবে না
নতুন পে-স্কেলের এই বিধানটি নিয়ে একটি ভুল ধারণা তৈরি হওয়ার সুযোগ রয়েছে। পাহাড়, হাওড়, দ্বীপ বা চর এলাকায় চাকরি করলেই কর্মচারী স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি নির্দিষ্ট অঙ্কের অতিরিক্ত টাকা পাবেন, বিষয়টি এমন নয়।
প্রথমে দেখতে হবে কর্মস্থল সংশ্লিষ্ট ভাতার আওতাভুক্ত কি না। এরপর কর্মচারীর মূল বেতন কত, তার ২০ শতাংশ কত দাঁড়ায় এবং নির্ধারিত সর্বোচ্চ সীমা কত, তা হিসাব করতে হবে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, পাহাড়ি ভাতার সর্বোচ্চ সীমা কর্মস্থলভেদে ৫ হাজার ও ৫ হাজার ৫০০ টাকা, আর হাওড়, দ্বীপ ও চর ভাতার সর্বোচ্চ সীমা ৫ হাজার টাকা।
নতুন পে-স্কেলের এই সুবিধা তাই শুধু ভাতার অঙ্কের বিষয় নয়। দুর্গম এলাকায় দায়িত্ব পালনকারী সরকারি কর্মচারীদের ক্ষেত্রে কর্মস্থল, মূল বেতন, প্রযোজ্য সরকারি তালিকা এবং ভাতা কার্যকরের তারিখ, চারটি বিষয় একসঙ্গে বিবেচনা করলেই প্রকৃত প্রাপ্য অর্থ জানা যাবে।
.jpg)