বর্ষাকালের টানা বৃষ্টি শিশুদের জন্য যেমন আনন্দের, তেমনি এটি নানা স্বাস্থ্যঝুঁকিও নিয়ে আসে। এ সময় সর্দি-কাশি, জ্বর, ডায়রিয়া, ত্বকের সংক্রমণ এবং মশাবাহিত রোগের আশঙ্কা বেড়ে যায়। শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তুলনামূলক কম হওয়ায় তাদের যত্নে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। কয়েকটি সহজ নিয়ম মেনে চললে বর্ষাকালেও শিশুদের সুস্থ রাখা অনেকটাই সম্ভব।
শিশুকে অকারণে বৃষ্টিতে ভিজতে দেবেন না
বৃষ্টিতে খেলতে শিশুদের ভালো লাগলেও দীর্ঘ সময় ভিজে থাকলে ঠান্ডাজনিত সমস্যা দেখা দিতে পারে। যদি বৃষ্টিতে ভিজেই যায়, তাহলে দ্রুত শুকনো কাপড় পরিয়ে দিন এবং শরীর ভালোভাবে মুছে নিন।
পুষ্টিকর ও নিরাপদ খাবার দিন
বর্ষাকালে শিশুদের তাজা ও গরম খাবার খাওয়ানোর চেষ্টা করুন। বাসি বা দীর্ঘক্ষণ বাইরে রাখা খাবার এড়িয়ে চলুন। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ভাত, ডাল, মাছ, ডিম, শাকসবজি এবং মৌসুমি ফল রাখুন। এতে প্রয়োজনীয় পুষ্টি নিশ্চিত হয় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভালো থাকে।
বিশুদ্ধ পানি পান করান
এই সময়ে পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি বেশি থাকে। তাই শিশুকে সবসময় নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানি পান করান। বাইরে গেলে নিজের সঙ্গে নিরাপদ পানির বোতল রাখার অভ্যাস করুন।
হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন
খাওয়ার আগে, টয়লেট ব্যবহারের পরে এবং বাইরে থেকে ফিরে শিশুকে সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার অভ্যাস শেখান। এটি ডায়রিয়া ও বিভিন্ন সংক্রমণ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
মশার কামড় থেকে সুরক্ষা দিন
বর্ষাকালে জমে থাকা পানিতে মশার বংশবিস্তার বাড়ে। তাই ঘরের আশপাশে পানি জমতে দেবেন না। শিশুকে মশারি টাঙিয়ে ঘুম পাড়ান এবং প্রয়োজন হলে বয়স উপযোগী মশা প্রতিরোধের ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।
ভেজা জুতা ও কাপড় দ্রুত বদলে দিন
শিশুর কাপড়, মোজা বা জুতা ভিজে গেলে তা দ্রুত পরিবর্তন করুন। ভেজা কাপড় দীর্ঘ সময় পরে থাকলে ঠান্ডা লাগার পাশাপাশি ত্বকের সমস্যাও হতে পারে।
ঘর পরিষ্কার ও বাতাস চলাচলের উপযোগী রাখুন
টানা বৃষ্টিতে ঘরে আর্দ্রতা বেড়ে যায়, যা ছত্রাক ও জীবাণু বৃদ্ধির অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে। তাই ঘর পরিষ্কার রাখুন এবং সুযোগ পেলেই জানালা খুলে বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা করুন।
পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিশ্চিত করুন
সুস্থ থাকার জন্য শিশুর পর্যাপ্ত ঘুম খুবই জরুরি। নিয়মিত ঘুম শরীরের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বজায় রাখতে সহায়তা করে। পাশাপাশি ঘরের ভেতরে নিরাপদ পরিবেশে খেলাধুলা বা হালকা শারীরিক কার্যক্রমে উৎসাহ দিন।
ত্বকের যত্ন নিন
বর্ষাকালে ঘাম ও আর্দ্রতার কারণে শিশুদের ত্বকে র্যাশ বা ছত্রাকজনিত সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই গোসলের পর শরীর ভালোভাবে মুছে শুকনো কাপড় পরিয়ে দিন। ত্বকে কোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
অসুস্থতার লক্ষণ অবহেলা করবেন না
শিশুর জ্বর, বারবার বমি, ডায়রিয়া, শ্বাসকষ্ট, খাওয়ায় অনীহা বা অতিরিক্ত দুর্বলতা দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। নিজে থেকে অ্যান্টিবায়োটিক বা অন্য ওষুধ খাওয়ানো ঠিক নয়।
বর্ষাকাল উপভোগের পাশাপাশি শিশুদের সুস্থ রাখার দায়িত্বও সমান গুরুত্বপূর্ণ। সামান্য সচেতনতা, পরিচ্ছন্নতা এবং সঠিক খাদ্যাভ্যাস শিশুদের অনেক মৌসুমি রোগ থেকে সুরক্ষিত রাখতে পারে। পরিবারের সবাই সচেতন থাকলে টানা বৃষ্টির দিনগুলোও শিশুদের জন্য নিরাপদ ও আনন্দময় হয়ে উঠতে পারে।