স্মার্টফোনে সহজ কিছু উপায়েই ফিরতে পারে আগের গতি

স্মার্টফোন এখন শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, কাজ, পড়াশোনা, ব্যাংকিং, বিনোদন থেকে শুরু করে দৈনন্দিন জীবনের অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজই এর ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু কিছুদিন ব্যবহার করার পর অনেকেই একটি সাধারণ সমস্যার মুখোমুখি হন। ফোন আগের মতো দ্রুত কাজ করে না। অ্যাপ খুলতে সময় লাগে, বারবার আটকে যায়, এমনকি সাধারণ কাজ করতেও বিরক্তিকর ধীরগতি দেখা দেয়।

অনেকেই মনে করেন, ফোন ধীর হয়ে গেলেই নতুন ফোন কিনতে হবে। বাস্তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কয়েকটি সহজ অভ্যাস ও কিছু প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের মাধ্যমে স্মার্টফোনের গতি অনেকটাই ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ সরিয়ে ফেলুন

অনেক সময় এমন অনেক অ্যাপ ফোনে থেকে যায়, যেগুলো মাসের পর মাস ব্যবহারই করা হয় না। এসব অ্যাপ শুধু স্টোরেজ দখল করে না, অনেক ক্ষেত্রে ব্যাকগ্রাউন্ডেও কাজ চালিয়ে যায়। ফলে ফোনের র‌্যাম ও প্রসেসরের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। তাই নিয়মিত অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ মুছে ফেলুন।

স্টোরেজে পর্যাপ্ত খালি জায়গা রাখুন

ফোনের স্টোরেজ প্রায় পূর্ণ হয়ে গেলে কর্মক্ষমতা কমে যেতে পারে। ছবি, ভিডিও, বড় ফাইল এবং ডাউনলোড করা অপ্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট নিয়মিত পরিষ্কার করুন। সম্ভব হলে মোট স্টোরেজের অন্তত ১৫ থেকে ২০ শতাংশ খালি রাখার চেষ্টা করুন।

ক্যাশ ফাইল পরিষ্কার করুন

বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহারের সময় অস্থায়ী ক্যাশ ফাইল জমা হয়। সময়ের সঙ্গে এগুলো অপ্রয়োজনীয়ভাবে জায়গা দখল করতে থাকে। ফোনের সেটিংস থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী অ্যাপের ক্যাশ পরিষ্কার করলে অনেক সময় গতি কিছুটা বাড়ে। তবে প্রয়োজন ছাড়া বারবার ডেটা মুছে ফেলার দরকার নেই।

ফোন রিস্টার্ট করার অভ্যাস করুন

অনেকে দিনের পর দিন ফোন বন্ধ বা রিস্টার্ট করেন না। অথচ সপ্তাহে অন্তত একবার ফোন রিস্টার্ট করলে অস্থায়ী ত্রুটি দূর হয় এবং অনেক ব্যাকগ্রাউন্ড প্রক্রিয়া নতুনভাবে শুরু হয়। এতে ফোন কিছুটা স্বাভাবিক গতিতে ফিরে আসতে পারে।

সফটওয়্যার আপডেট রাখুন

মোবাইল নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়মিত সফটওয়্যার আপডেট দেয়। এসব আপডেটে নিরাপত্তার পাশাপাশি কর্মক্ষমতার উন্নতিও থাকে। তাই নির্ভরযোগ্য আপডেট পাওয়া গেলে তা ইনস্টল করা ভালো।

ব্যাকগ্রাউন্ডে চলা অ্যাপ কমান

একসঙ্গে অনেক অ্যাপ চালু থাকলে র‌্যামের ওপর চাপ বাড়ে। বিশেষ করে কম র‌্যামের ফোনে এটি বেশি প্রভাব ফেলে। যে অ্যাপগুলো প্রয়োজন নেই, সেগুলো বন্ধ রাখুন। তবে প্রতিটি অ্যাপ বারবার জোর করে বন্ধ করাও সব সময় প্রয়োজন হয় না।

অ্যানিমেশন ও ভিজ্যুয়াল ইফেক্ট কমাতে পারেন

অনেক স্মার্টফোনে অতিরিক্ত অ্যানিমেশন ব্যবহার করা হয়, যা পুরোনো বা কম ক্ষমতার ডিভাইসে ধীরগতির অনুভূতি তৈরি করতে পারে। প্রয়োজন হলে ডেভেলপার অপশনের মাধ্যমে অ্যানিমেশনের গতি কমানো যায়। তবে এ ধরনের সেটিং পরিবর্তনের আগে বিষয়টি সম্পর্কে ধারণা থাকা ভালো।

ভাইরাস বা ক্ষতিকর অ্যাপ সম্পর্কে সতর্ক থাকুন

অবিশ্বস্ত উৎস থেকে অ্যাপ ইনস্টল করলে ফোন ধীর হয়ে যেতে পারে। তাই সব সময় বিশ্বস্ত অ্যাপ স্টোর থেকে অ্যাপ ডাউনলোড করুন এবং সন্দেহজনক অ্যাপ দ্রুত সরিয়ে ফেলুন।

প্রয়োজনে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংরক্ষণ করে ফোন রিসেট করুন

অনেক দিন ধরে ব্যবহারের ফলে ফোনে নানা ধরনের সফটওয়্যার সমস্যা জমে যেতে পারে। সব ধরনের চেষ্টা করার পরও যদি গতি না ফেরে, তাহলে গুরুত্বপূর্ণ ছবি, ভিডিও, কনট্যাক্ট ও প্রয়োজনীয় তথ্য ব্যাকআপ নিয়ে ফ্যাক্টরি রিসেট করার কথা ভাবতে পারেন। এতে অনেক ক্ষেত্রে ফোন নতুনের মতো স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে শুরু করে।

ব্যাটারির অবস্থাও বিবেচনায় রাখুন

অনেক পুরোনো স্মার্টফোনে ব্যাটারির কর্মক্ষমতা কমে গেলে সেটির প্রভাব ফোনের সামগ্রিক পারফরম্যান্সেও পড়তে পারে। যদি ব্যাটারি দ্রুত শেষ হয়ে যায় বা অস্বাভাবিক আচরণ করে, তাহলে অনুমোদিত সার্ভিস সেন্টারে পরীক্ষা করানো ভালো।

স্মার্টফোন ধীর হয়ে যাওয়া সব সময় বড় কোনো সমস্যার লক্ষণ নয়। নিয়মিত যত্ন, অপ্রয়োজনীয় ফাইল ও অ্যাপ পরিষ্কার রাখা এবং সফটওয়্যার হালনাগাদ রাখার মতো ছোট ছোট অভ্যাসই ফোনকে দীর্ঘদিন দ্রুত ও স্বাভাবিকভাবে ব্যবহার করতে সাহায্য করতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Are you human? Please solve:Captcha