ঘুম কমলেই মুখে ফুটে ওঠে ক্লান্তির ছাপ


রাত জেগে কাজ, পড়াশোনা, দীর্ঘ সময় মোবাইল ব্যবহার কিংবা ব্যস্ততার কারণে অনেকেরই ঘুমের সময় কমে যায়। সকালে আয়নায় তাকালে তখন চোখ-মুখে এক ধরনের ক্লান্তি ধরা পড়ে। বিষয়টি শুধু অনুভূতির নয়, ঘুমের ঘাটতির কিছু দৃশ্যমান প্রভাব সত্যিই মুখে দেখা যেতে পারে। গবেষণাতেও ঘুমের অভাবের সঙ্গে চোখ ও ত্বকের বেশ কিছু পরিবর্তনের সম্পর্ক পাওয়া গেছে।

চোখের নিচে কালচে ভাব বাড়তে পারে

ঘুম কম হলে সবচেয়ে আগে চোখের চারপাশেই পরিবর্তন চোখে পড়ে। চোখের নিচের অংশ তুলনামূলক গাঢ় দেখাতে পারে। দীর্ঘ সময় ঘুমের ঘাটতি থাকলে এই ক্লান্তির ছাপ আরও স্পষ্ট মনে হতে পারে। তবে চোখের নিচে কালচে ভাবের একমাত্র কারণ ঘুমের অভাব নয়। বংশগত বৈশিষ্ট্য, বয়স ও অন্যান্য কারণও এতে ভূমিকা রাখতে পারে।

চোখ লাল ও ফুলে যেতে পারে

কম ঘুমের পর চোখ লালচে কিংবা কিছুটা ফোলা দেখাতে পারে। একটি পরীক্ষামূলক গবেষণায় ঘুমবঞ্চিত ব্যক্তিদের ছবিতে চোখ বেশি লাল ও ফুলে থাকা এবং চোখের পাতা কিছুটা ঝুলে থাকার বিষয়টি পর্যবেক্ষকদের কাছে বেশি দৃশ্যমান হয়েছিল।

চোখের পাতা ভারী দেখায়

ঘুম কম হলে চোখের পাতা স্বাভাবিকের তুলনায় ভারী বা কিছুটা ঝুলে থাকা মনে হতে পারে। ফলে মুখে সহজেই ক্লান্তির ছাপ চলে আসে। বিশেষ করে টানা এক বা একাধিক রাত পর্যাপ্ত ঘুম না হলে এই পরিবর্তন বেশি চোখে পড়তে পারে।

ত্বক কিছুটা নিষ্প্রভ দেখাতে পারে

পর্যাপ্ত ঘুম না হলে মুখের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতাও কমে যেতে পারে। একটি গবেষণায় কয়েক রাত ঘুম সীমিত রাখার পর ত্বকের আর্দ্রতা কমে যাওয়া এবং মুখের উজ্জ্বলতা ও রঙের কিছু পরিবর্তন দেখা গেছে।

আরেকটি গবেষণায় সম্পূর্ণ ঘুমবঞ্চনা এবং কয়েক দিন ধরে অল্প ঘুমের পর মুখের ত্বকে হলুদাভ ভাব বাড়ার বিষয়টিও পাওয়া গেছে। তবে এসব গবেষণার ফলকে সবার ক্ষেত্রে একই রকম পরিবর্তন হবে বলে ধরে নেওয়া ঠিক নয়।

ত্বক শুষ্ক মনে হতে পারে

ঘুম কমানোর ওপর করা একটি পরীক্ষায় দুই রাত ঘুম সীমিত রাখার পর ত্বকের আর্দ্রতা কমে এবং ত্বক দিয়ে পানির ক্ষয় বেড়ে যাওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এর ফলে ত্বক আগের তুলনায় শুষ্ক বা টানটান মনে হতে পারে।

চোখের চারপাশে সূক্ষ্ম রেখা বেশি চোখে পড়তে পারে

ঘুমের ঘাটতির পর চোখের চারপাশের সূক্ষ্ম রেখা ও ভাঁজ কিছুটা বেশি দৃশ্যমান মনে হতে পারে। ঘুমবঞ্চিত মানুষের মুখ নিয়ে করা একটি গবেষণায় পর্যবেক্ষকেরা চোখের চারপাশে বেশি সূক্ষ্ম রেখা ও ভাঁজ দেখতে পেয়েছেন।

তবে এর অর্থ এই নয় যে এক রাত কম ঘুমালেই স্থায়ীভাবে বলিরেখা তৈরি হয়ে যাবে। নিয়মিত ঘুমের ঘাটতি, বয়স, সূর্যের আলো, জীবনযাপন ও ত্বকের যত্নসহ অনেক বিষয় ত্বকের দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কিত।

মুখের অভিব্যক্তিতেও ক্লান্তি ফুটে ওঠে

ঘুম কম হলে শুধু ত্বক বা চোখ নয়, পুরো মুখের অভিব্যক্তিতেও ক্লান্তির ছাপ দেখা যেতে পারে। গবেষণায় ঘুমবঞ্চিত ব্যক্তিদের মুখের ঠোঁটের কোণ কিছুটা নিচের দিকে থাকার বিষয়টি পর্যবেক্ষকদের চোখে বেশি পড়েছে। একই সঙ্গে তাদের মুখকে তুলনামূলক বেশি ক্লান্ত ও বিষণ্ন দেখিয়েছে।

তবে মুখ দেখে কারও ঘুমের পরিমাণ নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। ২০১৯ সালের আরেক গবেষণায় এক রাত সম্পূর্ণ ঘুমবঞ্চনার পর মুখের কিছু নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যে প্রত্যাশিত পরিবর্তন সব ক্ষেত্রে পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ ব্যক্তিভেদে ঘুমের ঘাটতির দৃশ্যমান প্রভাব আলাদা হতে পারে।

ঘুম কম হলে মুখে এমন পরিবর্তন দেখা দিলেই প্রসাধনী দিয়ে তা ঢাকার চেষ্টা করার আগে ঘুমের অভ্যাসের দিকে নজর দেওয়া বেশি গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুম, পানি পান, সুষম খাবার এবং ত্বকের স্বাভাবিক যত্ন শরীরের সামগ্রিক সুস্থতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। মুখে ক্লান্তির ছাপ বারবার দেখা দিলে শুধু সৌন্দর্যের সমস্যা হিসেবে না দেখে নিজের ঘুমের রুটিনটিও একবার খেয়াল করা ভালো।

শেষ পর্যন্ত সুন্দর দেখানোর জন্য আলাদা কোনো রহস্যের প্রয়োজন নাও হতে পারে। নিয়মিত ও পর্যাপ্ত ঘুম শরীরকে বিশ্রাম দেওয়ার পাশাপাশি মুখেও সতেজতার ছাপ ধরে রাখতে সহায়তা করতে পারে।