যত্ন কম, সঙ্গী দীর্ঘদিন- ঘরে রাখার মতো ৫ টেকসই গাছ


ঘরের সৌন্দর্য বাড়াতে অনেকেই ইনডোর প্ল্যান্ট রাখেন। কিন্তু গাছ কেনার পর নিয়মিত পানি দেওয়া, আলো-বাতাসের ব্যবস্থা করা কিংবা বারবার গাছ বদলানোর ঝামেলা অনেকেরই ভালো লাগে না। এমন পরিস্থিতিতে বেছে নেওয়া যেতে পারে এমন কিছু গাছ, যেগুলো তুলনামূলকভাবে সহনশীল, কম যত্নেও টিকে থাকে এবং উপযুক্ত পরিবেশ পেলে দীর্ঘদিন ঘরের সঙ্গী হয়ে থাকতে পারে।

তবে কোনো গাছের নির্দিষ্ট আয়ু শুধু তার নামের ওপর নির্ভর করে না। আলো, পানি, মাটি, তাপমাত্রা, পাত্র ও পরিচর্যার ওপর তার জীবনকাল অনেকটাই নির্ভরশীল। বহুবর্ষজীবী অনেক ঘরোয়া গাছই কয়েক বছর থেকে বহু দশক পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে।

স্নেক প্ল্যান্ট

ঘরের গাছের মধ্যে স্নেক প্ল্যান্ট বা সানসেভেরিয়া সবচেয়ে পরিচিত নামগুলোর একটি। লম্বা, শক্ত ও তলোয়ারের মতো পাতার কারণে দেখতে যেমন আকর্ষণীয়, তেমনি এটি বেশ সহনশীলও। উজ্জ্বল আলো থেকে তুলনামূলক কম আলো, দুই ধরনের পরিবেশেই এটি মানিয়ে নিতে পারে। পাতায় পানি জমিয়ে রাখার ক্ষমতা থাকায় কিছুদিন পানি না পেলেও সহজে নষ্ট হয়ে যায় না।

এই গাছের ক্ষেত্রে বরং অতিরিক্ত পানি দেওয়াই বড় সমস্যা হতে পারে। টবের মাটি শুকিয়ে গেলে পানি দেওয়া ভালো এবং পানি যেন টবে জমে না থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা ভালো এমন টব ব্যবহার করলে গাছ সুস্থ রাখাও সহজ হয়।

জেড জেড বা ZZ প্ল্যান্ট

কম আলো ও কম পানি দিয়ে ঘরে গাছ রাখতে চাইলে ZZ প্ল্যান্টও ভালো একটি পছন্দ। এর চকচকে সবুজ পাতা ঘরের সাজে আলাদা সৌন্দর্য যোগ করে। গাছটির ভূগর্ভস্থ রাইজোমে পানি জমা থাকে, ফলে খরা বা অনিয়মিত পানি দেওয়ার মতো পরিস্থিতি এটি অনেকটাই সহ্য করতে পারে।

ZZ প্ল্যান্টের ক্ষেত্রে নিয়মিত বেশি পানি দেওয়ার প্রয়োজন নেই। মাটি ভালোভাবে শুকিয়ে গেলে পানি দেওয়া যায়। অতিরিক্ত পানি জমে থাকলে শিকড় পচে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। উজ্জ্বল কিন্তু পরোক্ষ আলোতে ভালো বাড়ে, আবার কম আলোতেও টিকে থাকতে পারে।

কাস্ট আয়রন প্ল্যান্ট

নামটিই যেন গাছটির স্বভাবের পরিচয়। কাস্ট আয়রন প্ল্যান্ট বা অ্যাসপিডিস্ট্রা এমন একটি গাছ, যা কম আলো, অনিয়মিত পানি দেওয়া এবং ঘরের পরিবর্তনশীল পরিবেশও বেশ ভালোভাবে সহ্য করতে পারে। এ কারণেই এটিকে দীর্ঘদিন ধরে ‘কঠিন পরিস্থিতিতেও টিকে থাকা’ ঘরোয়া গাছ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

যেসব ঘরে সরাসরি সূর্যের আলো কম আসে, সেখানে এই গাছ রাখা যেতে পারে। এর বড়, গাঢ় সবুজ পাতা ঘরের কোণকে প্রাণবন্ত করে তুলতে পারে। তবে মাটি একেবারে জলাবদ্ধ করে রাখা যাবে না। অতিরিক্ত পানি শিকড়ের ক্ষতি করতে পারে।

স্পাইডার প্ল্যান্ট

পাতা সরু ও লম্বা। টব থেকে বেরিয়ে ছোট ছোট নতুন চারা ঝুলতে থাকে। এই বৈশিষ্ট্যের কারণেই স্পাইডার প্ল্যান্ট ঘরের সাজে বেশ আকর্ষণীয় দেখায়। সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, এটি সহজে বেড়ে ওঠে এবং সামান্য অবহেলাও সহ্য করতে পারে।

উজ্জ্বল কিন্তু পরোক্ষ আলোতে স্পাইডার প্ল্যান্ট ভালো থাকে। তুলনামূলক কম আলোতেও টিকে থাকতে পারে, যদিও তখন এর বৃদ্ধি ধীর হতে পারে। মাটি হালকা আর্দ্র রাখা ভালো, কিন্তু টবের নিচে পানি জমে থাকতে দেওয়া উচিত নয়।

এই গাছের আরেকটি সুবিধা হলো, পরিণত গাছ থেকে তৈরি হওয়া ছোট ছোট চারাগুলো আলাদা করে নতুন টবে লাগানো যায়। ফলে একটি গাছ থেকেই সময়ের সঙ্গে আরও অনেক গাছ তৈরি করা সম্ভব।

পথোস বা মানিপ্ল্যান্ট

ঘরের বারান্দা, জানালার পাশ কিংবা ঝোলানো টবে পথোস বা মানিপ্ল্যান্ট বেশ সহজেই মানিয়ে যায়। এটি আলো নিয়ে খুব বেশি খুঁতখুঁতে নয় এবং কিছুটা অবহেলাও সহ্য করতে পারে। এ কারণেই নতুন গাছপ্রেমীদের কাছে এটি জনপ্রিয়।

তবে পথোসকে দীর্ঘদিন সুস্থ রাখতে সরাসরি তীব্র রোদ এড়িয়ে চলা ভালো। মাটি শুকিয়ে গেলে পানি দিতে হবে, কিন্তু অতিরিক্ত পানি জমিয়ে রাখা ঠিক নয়। গাছটি লতানো হওয়ায় নিয়মিত ছাঁটাই করলে আকারও সুন্দর রাখা যায়।

দীর্ঘদিন বাঁচাতে চাইলে শুধু ‘কম যত্নের গাছ’ কিনলেই হবে না, গাছের প্রয়োজনটুকুও বুঝতে হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো অতিরিক্ত পানি না দেওয়া, টবের পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা ঠিক রাখা এবং গাছের জন্য উপযুক্ত আলো নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে শুকনো বা আক্রান্ত পাতা নিয়মিত সরিয়ে দিলে গাছের সামগ্রিক স্বাস্থ্য ভালো থাকে।

ঘরের জন্য গাছ বাছাইয়ের সময় তাই শুধু দেখতে সুন্দর কি না, সেটি না দেখে গাছটি আপনার ঘরের আলো, তাপমাত্রা ও পরিচর্যার অভ্যাসের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারবে কি না, সেটিও দেখা জরুরি। সঠিক জায়গা ও যত্ন পেলে একটি ছোট্ট টবের গাছও বছরের পর বছর ঘরের সবুজ সৌন্দর্যের অংশ হয়ে থাকতে পারে।