কেন ধীর হয়ে যায় স্মার্টফোন?


একসময় যে ফোনে চোখের পলকে অ্যাপ খুলত, ছবি তুলত বা ওয়েবসাইটে ঢুকে যেত, কিছুদিন পর সেটিই যেন হাঁপিয়ে ওঠে। স্ক্রিনে স্পর্শ করার পর প্রতিক্রিয়া আসতে সময় লাগে, অ্যাপ খুলতে দেরি হয়, কিবোর্ড আটকে যায় কিংবা ফোন হঠাৎ গরম হয়ে ওঠে। তখন অনেকেই ধরে নেন, ফোনটি বুঝি আর আগের মতো নেই। কিন্তু সব সময় এর জন্য ফোনের বয়স দায়ী নয়। স্টোরেজের ঘাটতি থেকে শুরু করে সফটওয়্যার, ব্যাটারি, অতিরিক্ত তাপ কিংবা কোনো নির্দিষ্ট অ্যাপের সমস্যাও ফোনের গতি কমিয়ে দিতে পারে।

সবচেয়ে সাধারণ কারণ স্টোরেজ প্রায় পূর্ণ হয়ে যাওয়া। ফোনে ছবি, ভিডিও, ডাউনলোড করা ফাইল, অ্যাপ ও অ্যাপের ডেটা জমতে জমতে একসময় খালি জায়গা খুব কমে যায়। গুগলের অ্যান্ড্রয়েড সহায়তা নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, স্টোরেজের ১০ শতাংশের কম খালি থাকলে ফোনে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই ফোনের স্টোরেজে কতটা জায়গা খালি আছে, সেটি নিয়মিত দেখা দরকার। বিশেষ করে হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জার বা অন্যান্য অ্যাপে স্বয়ংক্রিয়ভাবে জমা হওয়া ছবি-ভিডিও অনেকটা জায়গা দখল করতে পারে।

অপ্রয়োজনীয় অ্যাপও ফোনের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে। দীর্ঘদিন ব্যবহার না করা অ্যাপ সরিয়ে ফেললে স্টোরেজ খালি হয়। পাশাপাশি কোনো অ্যাপ অস্বাভাবিকভাবে বেশি ব্যাটারি বা ডেটা ব্যবহার করছে কি না, সেটিও ফোনের সেটিংস থেকে দেখা যায়। কোনো একটি অ্যাপ ব্যবহারের সময়ই যদি ফোন ধীর হয়ে যায় বা বারবার আটকে যায়, তাহলে সমস্যাটি সেই অ্যাপের সঙ্গেও যুক্ত হতে পারে। অ্যান্ড্রয়েডের ক্ষেত্রে অ্যাপ আপডেট করার পাশাপাশি প্রয়োজন হলে সমস্যাযুক্ত অ্যাপ শনাক্ত করতে নিরাপদ মোডেও পরীক্ষা করা যায়।

সফটওয়্যার পুরোনো হয়ে গেলেও কর্মক্ষমতায় সমস্যা দেখা দিতে পারে। অপারেটিং সিস্টেম ও অ্যাপের আপডেটে বিভিন্ন ত্রুটি সংশোধন করা হয়। তাই ফোনে আপডেট পাওয়া গেলে সেটি কী পরিবর্তন আনছে দেখে প্রয়োজন অনুযায়ী ইনস্টল করা ভালো। অ্যান্ড্রয়েডের অফিসিয়াল সহায়তা পাতাতেও ধীরগতির ফোনের ক্ষেত্রে সিস্টেম ও অ্যাপের আপডেট পরীক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আরেকটি বিষয় হলো একসঙ্গে অনেক ভারী কাজ করা। উচ্চ গ্রাফিক্সের গেম খেলার সময় ভিডিও রেকর্ড করা, ছবি সম্পাদনা করা বা একসঙ্গে একাধিক ভারী অ্যাপ ব্যবহার করলে প্রসেসর ও মেমোরির ওপর চাপ বাড়ে। তখন সাময়িকভাবে ফোনের প্রতিক্রিয়া ধীর হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে কিছু অ্যাপ বন্ধ করে ফোনকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে সময় দেওয়া উপকারী।

অতিরিক্ত তাপও ফোনের গতি কমাতে পারে। দীর্ঘক্ষণ গেম খেলা, ভিডিও ধারণ, রোদে ফোন ব্যবহার বা গরম পরিবেশে চার্জ দেওয়ার সময় যন্ত্রের তাপমাত্রা বেড়ে যেতে পারে। অতিরিক্ত গরম হলে ফোন নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে কিছু কার্যক্রম ধীর করতে পারে। অ্যাপলও জানিয়েছে, আইফোন অতিরিক্ত গরম বা ঠান্ডা হয়ে গেলে ধীরগতিতে চলতে পারে। তাই ফোন অস্বাভাবিক গরম হয়ে গেলে ব্যবহার বন্ধ রেখে স্বাভা